গয়না ছাড়া বিয়ে? সে তো অসম্ভব! গয়না ছাড়া কনের সাজ কখনোই পরিপূর্ণ হয়না। আমাদের দেশে অনেকেই গহনাকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে মনে করেন। সময়ের সাথে সাথে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অনেক পরিবর্তন এসেছে, তবে গয়নার আবেদন কমেনি এতটুকুও। এখনো গয়না শুধু সাজসজ্জার উপকরণ নয়, এটি যেন মায়ের বাড়ির আশীর্বাদ আর শ্বশুরবাড়ির উপহার।

বিয়েতে কনের গহনার তালিকা হওয়া চাই পরিপূর্ণ। যেন দূর থেকে দেখলেই বৌকে চেনা যায়। গায়ে হলুদ, বিয়ের দিন, বউভাতের দিনে আলাদা গহনা পরতে হয়। এখনকার মেয়েরা স্বর্ণের গহনা ছাড়াও রুপা, গোল্ড প্লেটেড গহনা, পাথরের গহনা, মুক্তো এমনকি ডায়মন্ডের জুয়েলারিও পরেন। সামনে হয়ত অনেকেরই বিয়ে। যারা এখনো কনফিউশনে আছেন বিয়েতে কি গহনা পরবেন এবং একটু কম খরচে কিভাবে গহনা কিনবেন আজকের এই লেখাটি তাদের জন্যে।

বিয়ের দিন কি কি গহনা পরবেন?

এখনো অনেকে কনফিউজড থাকেন ট্রেডিশন অনুযায়ী কি কি গহনা পরা উচিত সেটা নিয়ে। তাই আমরা বিয়ের কিছু ট্রেডিশনাল গহনার বর্ণনা দিচ্ছি, যা না থাকলে বিয়েতে কনেকে অসম্পূর্ণ লাগবে-

গলায় পরার গয়না

বিয়ের কনের গয়নার মধ্যে প্রধান হলো গলার হার। নতুন বৌকে দেখার সময় সবার আগে গলায় চোখ যায়। তাই গলার অলঙ্কারটি হতে হবে নজরকাড়া। স্টাইলিশ গলার গয়নার মধ্যে চোকার সেট, শেলি, অর্ধহার, চন্দ্রহার, পাতিহার, নেকলেস, চেন, মতিহার, রশ্মিমালা, মালা, লকেট, ইত্যাদির মধ্যে যে কোনোটা বেছে নিতে পারেন।

মাথার গহনা

ট্রেন্ডিং হেয়ারস্টাইল ছাড়াও মাথার গহনা ছাড়া কনের সাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়| মাথার গহনার মধ্যে সোনার মুকুট বা রূপোর জল করা সোনার মুকুট সবচেয়ে জনপ্রিয়। আর হেয়ার স্টাইলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুন্দর স্টাইলটি হলো খোঁপা। এই খোঁপাকে আরো আকর্ষনীয় করে খোঁপার জালি বা খোঁপার কাটা। তাছাড়া মাথার টায়রা, সিঁথিমোর, টিকলি, তাজ, টোপর, মৌলি ইত্যাদিও অনেকে পরেন।

আদর্শ জীবনসঙ্গী খুঁজতে

হাতে পরার জন্য

বিয়ের সাজে বৌয়ের হাত দুটি ফাঁকা থাকবে কেন? বিয়েতে কনেকে সোনার বালা দেয়ার ট্রেডিশনটা একদম শুরু থেকেই চলে আসছে। তাছাড়া হাতে পরবার জন্য চুড়ি, কঙ্কণ, আর্মলেট, চূড়, বাউটি, ব্রেসলেট, বাহুবন্ধ, মানতাসা, প্রতিশর ইত্যাদিরও চল রয়েছে এখন।

কানের গয়না 

কানে পরার জন্য সেরা গহনাগুলো হচ্ছে কর্ণপালি, কণিকা, ইয়ারিং, কর্ণমালা, কানবালা, ঝুমকা, বারবৌরি, দুল, মাকড়ি ইত্যাদি। আজকালকার দিনে এই গহনাগুলো বেশ ট্রেন্ডি।

নাকের জন্য গহনা

বিয়েতে নাকে নথ পরবার ট্রেডিশনটাও প্রাচীনকালের। এখনকার মডার্ন মেয়েরাও বিয়ের সাজে নথকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এছাড়া নাকের অন্যান্য অনুষঙ্গ ছিল নোলক, নাকসোনা, নাকছাবি, বেশর, টানা ইত্যাদি।

কোমরে কি পরবেন?

কোমরের জন্য মেয়েরা শুধু কোমরবন্ধনীই প্রেফার করেন। আজকাল দারুণ সব ডিজাইনের কোমরবন্ধনী পাওয়া যায় জুয়েলারীর দোকানগুলোতে। আগে মেয়েরা ট্রেডিশন অনুযায়ী কোমরে কিঞ্চিনি, কটিসূত্র, কটিবন্ধ, চন্দ্রহার, বিছা, মেখলা ইত্যাদি পরতেন।

পায়ের জন্য গহনা

স্বর্ণ বা রুপার ডিজাইন করা নূপুর নতুন বৌয়ের পায়ে একটা আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে। এছাড়া আপনি চাইলে পায়ে আঙুলে চুটকি এবং পায়ে ঘুঙুর, পায়জোর, মল, গুঁড়বাঁধ, আনোট, তোড়া গুজারি, পাষক ইত্যাদি পরতে পারেন। পায়ের গহনা কিন্তু আপনার বিয়ের সাজ একেবারে কমপ্লিট করবে।

সোনার গয়না

হালকা ডিজাইনের সোনার গহনার সঙ্গে পাথর, পুঁতি, কুন্দন বা মুক্তার মিশেলে তৈরি গয়না এখন বেশ ট্রেন্ডিং। শাড়ির কালারের সাথে ম্যাচ করে স্টোন বা পুঁতি বসিয়ে নেয়া যায়। এছাড়া সামর্থ থাকলে রুবি, পান্না বা টোপাজের মতো দামি পাথরও ব্যবহার করা যেতে পারে।

হীরার গয়না

অনেক মেয়েই বিয়েতে হীরার গয়না পরার শখ করেন। হীরার গয়নার দাম নির্ভর করে হীরার উজ্জ্বলতা এবং সাইজের ওপর। যে হীরা যত বেশি সূক্ষ্মভাবে কাটা হবে, সে হীরা তত বেশি উজ্জ্বল এবং দামও তত বেশি। এজন্য হীরার গয়না দেখেশুনে কিনবেন এবং পারলে ব্র্যান্ডের দোকান থেকে কিনবেন।

রুপার গহনা

বাজেটের মধ্যে থাকতে চাইলে রুপার গহনাও ব্যবহার করা যায়। এখন সোনার তুলনায় রুপার দাম বেশ কম হওয়ায় টায়রা, ঝাপটা, নাকের নোলক, বাজু, পায়ের নূপুর ইত্যাদি জুয়েলারিগুলো রুপার তৈরী করা হয়।

মেটালের গয়না

মেটালের গহনা ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো সুবিধা হচ্ছে এর ওপর যেমন খুশি তেমন ডিজাইন করা যায় এবং অন্যান্য গহনার তুলনায় মেটালের ওপর ডিজাইন ভালো ফুটে ওঠে। তাছাড়া এখন বিয়ের গয়না হিসেবে কুন্দন এবং মুক্তার গয়না ব্যবহার করে অনেকেই।

কম দামে বিয়ের গয়না কেনার টিপস

বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন, অতিথি আপ্যায়ন, শপিং, হানিমুন ইত্যাদি সহ বিয়ের খরচের লিস্টটা সবসময়েই একটু বড় হয়। এর মধ্যে এমনও দেখা যায় যে শুধুমাত্র গহনা কেনার পেছনেই কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। আবার গহনা কিনতে গেলেও পোহাতে হয় অনেক ঝামেলা। বিয়ের পোশাকের সাথে গয়না ম্যাচ করা, কোন অনুষ্ঠানে কোন গয়না লাগবে, গহনায় ব্যবহৃত স্বর্ণ রূপা আসল কিনা তা যাচাই করা ইত্যাদি জিনিসগুলো খেয়াল রাখতে হয়।

আবার সামর্থ না থাকায় অনেকের গহনা কিনতে নাভিশ্বাস উঠে যায়। তাই সাধ্য না থাকলে গয়না কেনার পেছনে খরচ কমাতে পারলে নতুন বর-কনে সুন্দরভাবে নতুন সংসার শুরু করতে পারেন। তাই গহনার খরচ কমানো এবং সতর্কতার সাথে গয়না কেনার ‍টিপসগুলো দেখে নিন-

সম্ভব হলে পুরোনো গহনা পরুন

বিয়েতে গহনা পরার ট্রেডিশনটা সুপ্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। সেই আদ্যিকাল থেকেই বিয়েতে বৌকে অনেক গয়না পরতে হয়। তবে যেহেতু একদিন মাত্র পরতে হবে তাই গহনার খরচ বাঁচাতে হলে আপনার মা অথবা দাদীদের সংরক্ষণ করে রাখা পুরোনো গহনা পরতে পারেন। বর্তমানে যেহেতেু কনের গহনা বরপক্ষ ও কনেপক্ষ দুই পরিবার থেকেই আসে, তাই পুরনো গয়না ব্যবহার করা বেশ ভালো একটা উপায়। বিয়ের আগে দেখে নিন আপনার পরিবারে কোন মুরুব্বী মহিলা আছেন কিনা যারা গয়না রেখে দিয়েছেন। যদি পেয়ে যান তাহলে গয়না কেনার খরচ অনেক কমে যাবে।

বাজেটের কথাও মাথায় রাখুন

আজও অনেক পরিবারে বাবা-মায়ের প্রথম ও প্রধান ভাবনা হলো কনের জন্য গহনা। অনেকেই মনে করেন যে বিয়েতে দামি গহনা না দিলে বিয়েটা ঠিকমত হবে না। আপনার যদি সামর্থ থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই গহনা কিনবেন, কিন্তু বাজেট এবং সামর্থ্যের কথা মাথায় না রেখে গয়নার কেনাকাটা করবেন না। সামর্থ না থাকলেও শুধুমাত্র সমাজের প্রশংসা শোনার জন্য বাজেট ছাড়িয়ে দামি গয়না কিনলে পরে বর-কনেকে সংসার শুরু করতেই আর্থিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বিলাসিতা করার সামর্থ থাকলে করবেন, অযথা বাড়তি খরচ করলে সমস্যা আর টেনশন দুই-ই বাড়বে।

গহনা কেনার সময় টিপস

আপনার পছন্দের গহনার সেট বাজারে পাওয়া না গেলে অযথাই টেনশন করবেন না। পছন্দের ডিজাইনের সেট পাওয়া না গেলে দোকানে অন্য যে ডিজাইন আছে সেগুলো দেখুন, পছন্দ হতে পারে। আর যদি একান্তই পছন্দের গহনা পরবার দরকার হয় তাহলে হাতে সময় রেখে অর্ডার দিন। আর অবশ্যই বিয়ের গয়না দুদিন না কিনে অন্তত দুই-তিন সপ্তাহ আগে থেকে কেনা শুরু করুন। মনে রাখবেন তাড়াহুড়ায় কোনো জিনিসই ভালো হয় না। সময় নিয়ে কেনাকাটা করলে ধীরস্থির ভাবে আসল গয়না কিনতে পারবেন।

গয়না কেনার আগে বিয়ের ড্রেস কিনুন

বৌয়ের জন্য বিয়ের কেনাকাটার লিস্টটা একটু বড়ই হয়। অনেক সময়ই দেখা যায়, মা-খালারা আগে থেকে প্ল্যান না করে সমানে এটা-সেটা কেনা শুরু করেন। কিন্তু মনে রাখবেন বিয়ের গহনা যতই দামি হোক না কেন, আসল সৌন্দর্য কিন্তু বিয়ের পোশাকে। তাই বিয়ের দিন পোশাকের সাথে গহনা মানানসই না হলে কনে-কে দেখতে অসুন্দর লাগবে। তাই গয়না কেনার আগে বিয়ের ড্রেস কেনাটা বুদ্ধিমানের কাজ। বিয়েতে আপনি কি পরবেন- শাড়ি নাকি লেহেঙ্গা, সেটা আগে ঠেক করুন। আগে ড্রেস কিনলে দেখবেন গয়না কেনার সময় স্টোন কালার, গহনার রং, ডিজাইন আপনার শাড়ী বা লেহেঙ্গার সাথে কালার ম্যাচিং করে নিতে পারবেন।

মুখের শেপ অনুযায়ী গহনা কিনুন

গহনা কেনার আগে যে পরবে তার মুখের শেপটা বিবেচনায় রাখা ভালো। কারণ সব ডিজাইনের পোশাকে যেমন সবাইকে ভালো দেখায় না, তেমনি সব গয়নাও সবাইকে পরলেই মানায় না। এজন্য মুখের শেপ যেরকম, তার ওপর ভিত্তি করেই নেকলেস, কানের দুল, টিকলি ইত্যাদি কিনতে পারেন। রাউন্ড ফেস হলে নেকলাইন থেকে কিছুটা দীর্ঘ নেকলেস এবং লম্বা দুল ভালো লাগবে। মুখের গড়ন ওভাল শেপ হলে সব ধরনের গয়নাই ভালো লাগবে। রেক্টেঙ্গুলার শেপের জন্য চোকার স্টাইল নেকলেস এবং গোল কানের দুল ভালো লাগবে। আর যদি আপনার মুখের হড়ন হার্ট শেপ হয় তাহলে গহনা কেনার সময় ছোট কাটের নেকলেস এবং চোকারের সাথে ঝোলানো মুক্তা বা পাথর দেয়া নেকলেস ও মাঝারি দৈর্ঘ্যের কানের দুল কিনতে পারেন।

চিন্তাভাবনা করে তবেই গয়না কিনুন

আপনার বিয়ের দিনের হেয়ার স্টাইলটা আগে থেকে ঠিক করে রাখুন। হেয়ার স্টাইল অনুযায়ী কানের দুল কিনুন। যদি চুল নিচু করে বাধেঁন তাহলে ঝুলানো কানের দুল পরুন। খোপা স্টাইলে চুল বাঁধলে মিডিয়াম দৈর্ঘ্যের কানের দুল ভালো লাগবে। তাছাড়া আপনার ব্লাউজ বা লেহেঙ্গা যদি ডীপ নেকলাইনের হয় তাহলে হেভী চোকার কিনুন আর যদি হাই নেকলাইন হয় তাহলে লম্বা ঝুলের নেকলেস বেশ ভালো মানাবে।

তাছাড়া গহনা কেনার সময় অভিজ্ঞ কাউকে সাথে নিন। গয়না কেনার ব্যাপারে মা, খালা, হবু শাশুড়ীরা বেশী অভিজ্ঞতা রাখেন। ক্ল্যাসিক্যাল স্টাইলের হোক বা ট্রেডিশনাল, অভিজ্ঞরা যেকোন ধরনের গয়না কিনতে আপনাকে সাহায্য করবেন। সাথে অভিজ্ঞ কেউ থাকলে টাকার দিক থেকেও ঠকার আশঙ্কা থাকে না।

গোল্ড প্লেটেড গহনা কিনতে পারেন

গহনার পেছনে খরচ কমানোর একটা ভালো উপায় হচ্ছে গোল্ড প্লেটেড গহনা কেনা। গোল্ড অথবা সিলভার প্লেটেড গয়নাগুলো এখন বেশ কম দামে পাওয়া যায়। প্লেটেড গয়না যেহেতু দেখে খালি চোখে দেখ বোঝা যায়না, তাই বিয়েতেও কেউ ধরতে পারবে না। আবার প্লেটেড গহনার রঙ উঠে গেলেও নতুন করে রঙ করিয়েও বহুদিন পরতে পারবেন।

আবার বিয়ের অনুষ্ঠানে কনেরা ভারি গহনাগুলো একদিনই পরেন। বাকিটা সময় এগুলো পড়ে থাকে আলমারির ভেতরে অথবা সিন্দুকে যেগুলো হয়ত আপনার মেয়ে হলে তার বিয়েতে ব্যবহার করা হবে। আর্থিক সঙ্গতি না থাকলে শুধুমাত্র বিয়ের দিনের জন্য গয়না না কিনে বরং গয়না ভাড়া করুন। অনেক জায়গাতেই বিয়ের গয়না ভাড়া পাওয়া যায়।

গহনা কেনার সময় বাড়তি সতর্কতা

জুয়েলারি যে শুধু সামনাসামনিই দেখতে সুন্দর হবে তা নয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে এখন ওয়েডিং ফটোগ্রাফি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই গয়নায় যেনো নতুন বৌকে স্টাইলিশ এবং ফ্যাশনেবল দেখায়। এখনকার সময়ে তো স্বর্ণ আর ডায়মন্ডে নকলের অভাব নেই। তাই কেনার আগে দেখেশুনে কিনতে হবে আর কেনার সময় অবশ্যই গ্যারান্টি কার্ড নিতে হবে। দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করে রাখতে চাইলে স্বর্ণ এবং হীরার গহনা নির্দিষ্ট বক্সে ভরে রাখতে হবে। মেটালের গহনা টিস্যু দিয়ে মুড়িয়ে বক্সে ভরে রাখলে অনেক দিন ভালো থাকে। মাঝে মধ্যে গয়না পলিশ করালে রং টিকে থাকে।

বিয়ের দিন পোশাকের সাথে ম্যাচিং গহনা আপনাকে করে তুলতে পারে অনুষ্ঠানে সবার মধ্যে আলাদা একজন, মডার্ন ফ্যাশনেবল কনে।

বিয়ে সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য, সেবা, এবং পরামর্শ পেতে যোগাযোগ করুন তাসলিমা ম্যারেজ মিডিয়ার সাথে।
কল করুনঃ+880-1972-006691 অথবা +88-01782-006615 এ।
আমাদের মেইল করুন taslima55bd@gmail.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here